সোমবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১২

ভাঙ্গনের ফলে সিরাজগঞ্জ জেলা মানচিত্র থেকে হারাতে বসেছে চৌহালী উপজেলার নাম

যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনের ফলে সিরাজগঞ্জ জেলা মানচিত্র থেকে হারাতে বসেছে চৌহালী উপজেলার নাম। প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের পরও ক্রমাগত ভাঙ্গনে বার বার ধস নামায় উপজেলা কমপে¬ক্সটি এখন বিলীন হবার পথে। এ অবস্থায় নদীর পাড় থেকে উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের দূরত্ব  মাত্র ৭ মিটার। প্রশাসনিক ভবন ভাঙ্গনের কবলে পড়ায় উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রম চৌহালী ডিগ্রি কলেজে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে চৌহালী রক্ষা বাঁধ ৩ বার ভাঙ্গনের কবলে পড়ে। এর ফলে ষ্টাফ কোয়ার্টারের অংশ বিশেষ, ভিজুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পোষ্ট অফিস, ভুমি অফিস সহ গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙ্গনের তীব্রতার কারনে বাঁধ সংলগ্ন ৯টি গ্রামের প্রায় ৩ হাজার পরিবার বাড়ি-ঘর অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় চৌহালী উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম ডিগ্রি কলেজে স্থানান্তরের সিদ্ধন্ত নেয়া হয়েছে।
জানাগেছে, টাঙ্গাইল জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড চৌহালী উপজেলা রক্ষা বাঁধ ও ধস ঠেকানোর দায়িত্বে¡ থাকায় তেমন কোন কাজ হয়নি। নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধির ধোয়া তুলে ঠিকাদাররা কাজ শুরু করতে বিলম্ব করায় এমনটি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এ কারনে উপজেলার অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যমুনা গর্ভে বিলীন হয়েছে। চলতি ২০১২ সালের বর্ষা মৌসুমের ৪ জুন বাঁধের ৪০ মিটার, ৩০ জুন ৮০ মিটার এবং ১৭ সেপ্টেম্বর দেড়শ মিটার নদী গর্ভে বিলীন হয়। ভাঙ্গন এখনও অব্যাহত রয়েছে। ভাঙ্গনের কারনে এলাকার ৩ হাজার পরিবার তাদের বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গেছে। অনেকে সরে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অব্যাহত ভাঙ্গনের ফলে বর্তমানে উক্ত গ্রামগুলোর অস্তিত্ব শেষ পর্যায়ে। এবিষয়ে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসডিই আব্দুর রশিদ বলেন, নদীর গতি দেখে চৌহালী উপজেলা ভবন রক্ষার নিশ্চয়তা দেয়া কঠিন। উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাসরিন আক্তার জানান, উপজেলা রক্ষা বাধের কাজের পরিকল্পনাতেই ভুল ছিলো। চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অচিন কুমার কুন্ডু বলেন, চৌহালী উপজেলা রক্ষা বাঁধের ভাঙ্গন রোধে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তেমন পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম চৌহালী ডিগ্রি কলেজে স্থানান্তর করা হবে।